মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মেয়েদের বাদ দিলো তালেবান! নিজেকে জিজ্ঞেস করি, কেন আমি বেঁচে আছি “আফগান স্কুলছাত্রী”

বার্তা ডেস্কঃ আফগানিস্তানে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পুনরায় খুলেছে। তবে কেবল পুরুষ শিক্ষক ও ছেলে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরতে বলেছে তালেবান সরকার। গোষ্ঠীটির প্রকাশিত বিবৃতিতে মেয়ে বা নারী শিক্ষার ব্যাপারে কোনো কথা উল্লেখ করা হয়নি। খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ শনিবার মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে বিবৃতি প্রকাশ করেছে তালেবান। সেখানে বলা হয়, সব পুরুষ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরা উচিত।

সাধারণত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা পড়ে থাকেন। আবার অধিকাংশ স্কুলই আলাদা। ফলে তালেবানরা সহজেই নারীদের স্কুল থেকে বাদ দিতে পারছে।

আফগানিস্তানের স্কুল পড়ুয়া এক মেয়ে শিক্ষার্থী বলেন, তিনি বিধ্বস্ত। চারপাশে সবকিছুই অন্ধকার দেখাচ্ছে।

এর আগে গতকাল শুক্রবার নারী বিষয়ক মন্ত্রণালয় বাতিল করে দিয়েছে তালেবান সরকার। কাবুলে মন্ত্রণালয়ের ভবনে নারীদের সব চিহ্ন মুছে দিয়ে সেখানে তালেবানের নৈতিক পুলিশের চিহ্ন প্রতিস্থাপন করেছে শ্রমিকরা। বিভাগটির সাবেক নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেছেন, তাদের ভবনের বাইরে তালা দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশিত ছবি এবং রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবনটি দারি এবং আরবি মিশ্রিত চিহ্ন দ্বারা আচ্ছাদিত ছিল। শুক্রবার সেখানে ‘প্রার্থনা ও নির্দেশনা মন্ত্রণালয় এবং পুণ্যের প্রচার এবং অনৈতিকতা প্রতিরোধ’ লেখা দেখা গেছে।

নিজেকে জিজ্ঞেস করি, কেন আমি বেঁচে আছি: আফগান স্কুলছাত্রী

আফগানিস্তানে মাধ্যমিক বিদ্যালয় খুললেও ক্লাসে ফিরেছে কেবল পুরুষ শিক্ষক ও ছেলে শিক্ষার্থীরা। তবে নারীদের ক্লাসে ফিরতে বলেনি তালেবান। এমতাবস্থায় নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন দেশটির নারী শিক্ষার্থীরা।

আফগানিস্তানের স্কুল পড়ুয়া এক মেয়ে শিক্ষার্থী বিবিসিকে বলেন, তার স্বপ্ন ছিল আইনজীবী হওয়া। কিন্তু এখন ভবিষ্যত নিয়ে খুবই শঙ্কায় আছেন।

তিনি বলেন, চারপাশে সবকিছুই অন্ধকার দেখাচ্ছে। প্রত্যেকদিন আমি ঘুম থেকে জাগ্রত হই এবং নিজেকে জিজ্ঞেস করি, কেন আমি এখনো বেঁচে আছি? আমার কী ঘরে অবস্থান করা উচিত? অথবা কারো জন্য অপেক্ষা করা, যিনি আমার ঘরের দড়জায় এসে নক করবেন এবং বলবে, আমি যেন তাকে বিবাহ করি? নারী হওয়ার উদ্দেশ্য কী এটাই?

এই স্কুল শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, আমার মা অশিক্ষিত ছিল, এবং আমার বাবা তাকে ক্রমাগত ধমক দিতো এবং বোকা বলে সম্বোধন করতো। আমার কন্যা মায়ের মতো হোক, এটা আমি চাই না।

১৬ বছর বয়সী আরেক স্কুল শিক্ষার্থী বলেন, এটি একটি দুঃখজনক দিন। আমি চিকিৎসক হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন বাতিল হয়ে গেছে। তারা (তালেবান) আমাদের আর স্কুলে যেতে দিবে বলে মনে হয় না। এমনকি যদি আবারও স্কুল খোলে, তবুও তারা চায় না নারীরা শিক্ষিত হোক।

এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে তালেবান ঘোষণা করেছে যে, নারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার অনুমতি পাবে। তবে পুরুষের সঙ্গে নয়, সম্পূন্ন আলাদা। নারীদের জন্য আলাদা ড্রেস কোডও থাকবে। কিন্তু আলাদা ক্লাস পরিচালনা করার মতো পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা আফগানিস্তানে নেই। যার কারণে অনেক নারী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে শঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে নারীদের বাদ দেওয়া এটাও ইঙ্গিত করে যে, তাদেরকে পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে না।

Share This Post

Post Comment