ত্ব-হাকে ফিরে পাওয়ার পর যা জানালেন স্বজনরা

বার্তা প্রতিবেদক রংপুরঃ নিখোঁজের আটদিন পর নিখোঁজ ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানকে পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১৮ জুন) বেলা সোয়া দুইটার দিকে রংপুর নগরীর পায়রা চত্বর এলাকার সেন্ট্রাল রোডের বাসায় বাসায় ফিরেছেন।

ত্ব-হার ফিরে আসার খবর পেয়ে তার বাসায় যান বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা। সেখানে প্রতিবেশীদের সঙ্গে ত্ব-হার ফিরে আসার বিষয়ে কথা বলেতে চাইলে কেউ রাজি হননি।

তবে ত্ব-হার শ্যালক মো. জাকারিয়া জানান, আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর ত্ব-হা রংপুরে তাদের বাড়িতে ফিরে এসেছেন বলে তারা খবর পেয়েছেন।

ত্ব-হার ফিরে আসা সরাসরি কেউ দেখেছেন কিনা জানতে চাইলে এ সময় এক নারী বলেন, আমি এ বিষয়ে কথা বলতে পারব না।

এরপর ত্ব-হার ভাই তারেকও শুরু কথা বলতে রাজি হননি। পরে তিনি বলেন, সে সুস্থ হোক। সুস্থ সে নিজেই সবকিছু জানাবে। ত্ব-হার শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তার সঙ্গে কথা বলার সময় পাইনি। সে আসলো, আমরা তাকে রিসিভ করলাম। তাকে নিজ হাতে যে একমুঠ ভাত খাওয়াব, সে সুযোগও পাইনি। পানি খাইল। এরপর ওসি সাহেব এসে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেল। তাকে যে ট্রিটমেন্ট করাব, সে সুযোগও পাইনি। তবে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।

তারেক আরও বলেন, সবাই দোয়া করবেন। আপনাদের দোয়ায় সে ফিরে এসেছে। সে সুস্থ হয়ে আবার যেন দ্বীন প্রচার করতে পারে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন গনশাধ্যমকে জানিয়েছেন, ত্ব-হা রংপুর নগরীরর কলেজ রোডে চারতলা মোড়ে প্রথম স্ত্রীর ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। এরপর তাকে সেখান থেকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়। এখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জানান তিনি।

আবু মারুফ আরও বলেন, তার সঙ্গে যে তিনজন নিখোঁজ হয়েছিলেন, তারাও যার যার বাড়ি ফিরে গেছেন। এ মুহূর্তে এইটুকু তথ্য আছে। পরে আমরা বিস্তারিত জানাব।

গত ১০ জুন রংপুর থেকে ঢাকায় আসার পথে রাজধানীর গাবতলী এলাকা থেকে ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান নিখোঁজ হন। এছাড়াও তার সঙ্গে নিখোঁজ হয়েছেন আব্দুল মুহিত, মোহাম্মদ ফিরোজ ও গাড়িচালক আমির উদ্দীন।

ত্ব-হার নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে দারুসসালাম এবং মিরপুর থানায় গেলে কোনো থানাই সাধারণ ডায়েরি বা মামলা গ্রহণ করেনি বলেও অভিযোগ করেছেন তার পরিবার। এ নিয়ে সর্বশেষ রংপুর সদর থানায় একটি জিডি করা হয়।

Share This Post

Post Comment