মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে মহসিন হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করলো সিআইডি “গ্রেফতার-৪”

শামীম চৌধুরী: বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ভালুকার সিডস্টোরের ঝালপাজা গ্রামে মহসিন হত্যাকান্ডে সিআইডির অভিযানে চারজন গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, ফারুক (২৪), সাঈম (২০), রাজীব (২৩) ও মোশারফ (৩৫) গ্রেফতারকৃতরা নিজেদেরকে হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ত করে আদালতে স্বিকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে। হত্যায় জড়িত থাকায় আদালতে জবানবন্দির মধ্য দিয়ে মহসিন হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন সিআইডি। সিআইডি পুলিশ ও মামলা সুত্রে জানা গেছে, ভালুকার সীডষ্টোর এলাকায় ঝালাপাজা গ্রামের জনৈক মহসিন সরকারের বসতঘরে টক্কর সাপ ছিলো। ঐ সাপ সময়ে সময়ে ডাকতো। গ্রামবাসীর অনেকেই তার বাড়ীতে টক্কর সাপ থাকার বিষয়টি জানতো। টক্কর সাপ অনেক মূল্যবান ও মোটা অংঙ্কের টাকায় বিক্রি হয়। এটার দাম কোটি টাকার উপরে। এ ধরণের ধারাণায় একটি চক্র মহসিন সরকারের বাড়ি থেকে এই টক্কর সাপটি চুরি করে নিয়ে বিক্রির চেষ্টায় নানা পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করতে থাকে। মহসিন সরকার বেশীর ভাগ সময়ে বাড়ীতে একা থাকতেন। লেখাপড়ার জন্য তার স্ত্রী সন্তান ময়মনসিংহ শহরেই বছরের বেশির ভাগ সময় বসবাস করতেন। প্রতিদিনের ন্যায় মহসিন আলী গত বছরের ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় সীডষ্টোর বাজারে যায়। এই সুযোগ রাত অনুমান ১০ টারদিকে প্রতিবেশী রাজীব ও আদলের সহযোগিতায় ঐ চক্রের সদস্য রুবেল, ফারুকের নেতৃত্বে ৬/৭ জন মহসিন সরকারের বসতঘরের পিছনের দিকের জানালা ভেঙ্গে ঘরের ভীতরে প্রবেশ করে টক্কর সাপ খুজতে থাকে। এদিকে মহসিন সরকার মোটর সাইকেল যোগে তার বাড়িতে যান এবং বসতঘরে লোকজন দেখে কয়েকজনকে চিনতে পারেন। মহসিনকে চিনে ফেলায় তাকে দা দিয়ে আক্রমণ করে। এক পর্যায়ে চক্রটি মহসিন সরকারকে আটক করে তার হাত, পা, মুখ বেধে গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ সময় চক্রটি নিহত মহসিনের বাসা থেকে দূটি মোবাইল ফোন ও কতক মালামাল নিয়ে চলে যায়। এই ঘটনায় মহসিন সরকারের স্ত্রী পারভীন আক্তার বাদী হয়ে ভালুকা থানায় মামলা নং-৫ তাং ৪/১০/১৯ ধারাঃ ৩০২/৩৪ দায়ের করেন। এই মামলাটি থানা পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘদিন তদন্তে সিআইডি মহসিনের ঘর থেকে লুন্ঠিত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে গত ১১ মার্চ/২০২০ সিআইডি বিশেষ পুলিশ সুপার, সিআইডি, ময়মনসিংহ বিভাগ ড.মো:আল্ মামুনুল আনসারী, অতি:বিশেষ পুলিশ সুপার খন্দকার ছাইদ আহাম্মদ, সহকারী শওকত আলম পিপিএময়ের নিবিড় তদারকীতে তদন্তকারী এসআই জিয়াউর রহমান আধুনিক টেকনোলজি ব্যবহার করে পুলিশ কুমিল্লা জেলা সহ ভালুকার বিভিন্ন এলাকা থেকে হত্যাকান্ডে জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে সিআইডি দুটি লুন্ঠিত ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। সিআইডি আরো জানায়, গ্রেফতারকৃতরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদে মহসিন হত্যাকান্ডের বিস্তারিত জানান এবং নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। বৃহস্পতিবার তাদেরকে আদালতে পাঠানো হলে, ঘটনার বর্ণনা দিয়ে চার জনই স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Share This Post

Post Comment

%d bloggers like this: