চীনের করোনাভাইরাসের উৎপত্তির শহরে বন্ধ হচ্ছে গণপরিবহন

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে চীনা শহর উহানে গণপরিবহন চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এ ছাড়া ওই শহরে বসবাসরতদের আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শহর ছেড়ে না যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। খবর বিবিসির।রহস্যময় নতুন ভাইরাসটি মূলত চীনের উহান শহর থেকে ছড়াচ্ছে। এর আগে ২০০২-০৩ সালে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়ায় সার্স ভাইরাস।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, ওই সময়ে চীন ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসে বিশ্বে প্রায় ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়। এবারে নতুন করে আতঙ্ক ছড়ানো ভাইরাসটির উৎপত্তিও চীন থেকে। দেশটির উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসটির উপস্থিতির খবর দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, ম্যাকাও এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকেও পাওয়া গেছে।উহান শহরে ১ কোটি ১০ লাখ মানুষের বসবাস। চান্দ্র নতুন বর্ষ হিসেবে এই সময়টাতে লাখ লাখ চীনা নাগরিক ঘুরে বেড়ান। তবে উহান শহরের বাসিন্দারা এবার আটকা পড়ে গেছেন। এখন পর্যন্ত এই ভাইরানেস ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, আক্রান্ত হয়েছে ৫০০ এরও বেশি।নতুন ধরনের এই ভাইরাসের উৎস খুঁজতে এখনো তদন্ত চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ভাইরাসটির প্রাথমিক উৎস প্রাণী হতে পারে। তবে চীনা কর্মকর্তাদের দাবি এই ভাইরাস ছড়ানোর সঙ্গে উহানের একটি সামুদ্রিক খাবারের বাজারের সম্পর্ক রয়েছে। করোনা ভাইরাস ঠেকানোর প্রচেষ্টা জোরদার করেছে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো। ভাইরাসটিকে ২০১৯-এসসিওভি নামে ডাকা হচ্ছে। গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে এটি ছড়িয়ে পড়ে।গত ২০ বছরে চীন এবং বাকি বিশ্বের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট যোগাযোগ দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। উহানের ১ কোটি ১০ লাখ বাসিন্দা এখন সরাসরি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গন্তব্য ছাড়াও বাড়ির কাছের সিউল, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর ও সিঙ্গাপুরের মতো শহরে যেতে পারে। সে কারণেই ভাইরাসটি চীনের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, ম্যাকাও এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভাইরাসটির উপস্থিতির খবর জানা গেছে।

১৭ জনের মৃত্যুর পর উদ্বেগে বিজ্ঞানীরা

এশিয়ার পরাশক্তি চীনে ছড়িয়ে পড়া রহস্যজনক ভাইরাসে আরও কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ নিয়ে বিগত দিনগুলোতে মৃতের সংখ্যা ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, নতুন এই ভাইরাস মূলত একজনের শরীর থেকে অন্য জনের শরীরে ছড়াচ্ছে।বুধবার (২২ জানুয়ারি) দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, চীনের গুয়াংডং অঞ্চলে আরও দুইজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। তাছাড়া ১৫ জন চিকিৎসা কর্মী এরই মধ্যে ভাইরাসজনিত রোগে অসুস্থ হয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

উহান পৌর স্বাস্থ্য কমিশনের পাঠানো বিবৃতির বরাতে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি নিউজ জানায়, অজ্ঞাত এই ভাইরাসে সর্বশেষ প্রাণ হারানো ব্যক্তিটি উহান শহরের বাসিন্দা। এই শহর থেকেই গত ডিসেম্বরে ভাইরাসটির আবির্ভাব ঘটে।বিশ্লেষকদের মতে, বিশাল জনসংখ্যার এই দেশটিতে প্রতিনিয়ত নতুন ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত কয়েকদিনে চীনে আরও ১৩৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক বলে দাবি বেইজিং প্রশাসনের। যদিও বেসরকারি সূত্রগুলো জানায়, অজ্ঞাত এই ভাইরাসে চীনে আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজারের অধিক। যার মধ্যে অধিকাংশই পুরুষ।উল্লেখ্য, মানুষের মাধ্যমে ছড়ানো নতুন এই ভাইরাস ইতোমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও জাপানে দেখা গেছে। তাছাড়া আতঙ্কে রয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তান।রহস্যজনক এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শ্বাসকষ্ট, সর্দি, জ্বর ও কাশির মতো সমস্যা দেখা দেয়। তাই মানুষের শরীরে এমন উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা।

 

Share This Post

Post Comment

%d bloggers like this: