নেত্রকোনায় ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামীরা এখনও গ্রেফতার হয়নি

বার্তা প্রতিবেদকঃ  ময়মনসিংহ নেত্রকোনার লক্ষীগঞ্জে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী (১১) অপহরনের পর ধর্ষন, মামলার প্রায় একমাস পেরিয়ে গেলেও আসামীরা গ্রেপ্তার হয়নি।

নেত্রকোনার চাঞ্চল্ল্যকর এ মামলায় ভিকটিমের মেডিকেল পরীক্ষায় জোর পুর্বক ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তার পরও অভিযুক্ত আসামীরা জামিন নিয়ে এলাকায় ধাপটের সহিত ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে জানা যায়। তা ছাড়াও ভিক্টিমের পরিবার কে বিভিন্ন ভাবে ভয় ভীতি প্রদর্শন করে আসছে বলে জানান।

সরেজমিন ঘটনাস্থল ঘুরে, মামলা সুত্র ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ভিকটিম (১১) নেত্রকোনা মডেল থানার নসিবপুর গ্রামের আবুতাহের এর মেয়ে, সে নসিবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী।

গত ২৯ অক্টোবর বিকেল ৫টায় নানী জমিলার সঙ্গে স্থানীয় সানকিউরা এতিমখানা হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ওয়াজ মাহফিল শোনার জন্য যায়, মাদ্রাসা সংলগ্ন বুদু মিয়ার বাড়ীতে বসে রাত ১০.৩০ মিঃ পর্যন্ত নানীর সাথে বসে ওয়াজ শুনে,হঠাত ভিক্টিমের নানী দেখতে পান নাতিন তার পাশে নেই। তখন তাকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে আত্নীয় স্বজনদের খবর দেন। খবর পেয়ে ভিকটিমের বাবা আবু তাহের এলাকার লোকজন নিয়ে ভিক্টিমকে খুজতে থাকেন, এক পর্যায়ে ৩১/১০/১৯ তারিখ ভোর আনুঃ ৪ তার সময় ভিক্টিম কৌশলে পালিয়ে পাশেই নসিবপুর ভিকটিমের এক আত্মীয় উজ্জ্বল দের বাসায় গিয়ে উঠে। উজ্জ্বল তখন ভিকটিমের বাবাকে খবর পাঠান মেয়ের অবস্থা জানিয়ে।

ভিক্টিমের বাবা এলাকার স্থানীয় মুরুব্বিদের সাথে নিয়ে ভিকটিমের কাছে পৌঁছালে ভিক্টিম কেঁদে ফেলে ঘটনা খুলে বলে। ভিকটিমের জবানবন্দী থেকে জানা যায়,২৯/১০/১৯ তারিখ রাত আনু; ১১ টার সময় ওয়াজ মাহফিলের স্থান বুদু মিয়ার বাড়ির পাশে দোকান থেকে কিছু আনতে যায় এ সময় নেত্রকোনা বাজনিপাড়ার এখলাস উদ্দিনের ছেলে পিয়াল সাথে অজ্ঞ্যাত আরো ২ জন কে সাথে নিয়ে জোর পুর্বক অপহরন করে মুখ বেঁধে ধরে নিয়ে বাজনি পাড়া তাদের নিজ বাড়ীতে বাবা,মা,বোন ও অজ্ঞ্যাত আরো ২ অপহরন কারীর সহায়তায় হাত,পা ও মুখ বেঁধে ধানের গোলায় ফেলে রাখে। ৩০/১০/১৯ তারিখ ১নং আসামী পিয়াল(২০) ভিক্টিমকে সেখান থেকে বের করে তাদের অন্য একটি ঘরে নিয়ে জোরপুর্বক ধর্ষন করে। তার পর আবারও হাত, পা, মুখ বেঁধে রেখে দেয়। এসময় ২ ব্যাক্তির কথা বলাবলি শুনতে  পায়, তারা বলে এটাকে আমাদের চলবেনা তার পর তারা চলে যায়। এর পর ভিক্টিম নিজেই বাঁধন খোলার চেষ্টা করে এবং বাড়ীর লোকজনের কোনপ্রকার সাড়া শব্দ না পেয়ে কৌশলে দরজার খিল খুলে ভিক্টিম পাশেই তাদের আত্মীয় উজ্জলের বাসায় পৌঁছান। এবং বাবা এলাকার লোকজনদের সাথে নিয়ে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে মেয়েকে ভর্তি করেন।ভিক্টিম সকল ঘটনা ডাক্তার কে খুলে বলে।মেডিকেল পরীক্ষায় জোর পুর্বক ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।  এই ঘটনায় অপহরন জোর পুর্বক ধর্ষনের একটি মামলা দায়ের হয়, যার নং ০১/৫২৯ তাং ০১/১১/১৯ইং । যার ১ নং আসামী অপহরন কারী পিয়েল(২০), পিতাঃ এখলাস উদ্দিন,(২) এখলাছ উদ্দিন (৫৫),(৩) রেজিয়া আক্তার (৪৫),(৪)মুনমুন আক্তার (১৮),অজ্ঞ্যাত আরও ২ জন। এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকা বাসি মানব বন্ধন ও করেছেন । কিন্তু ৪নং আসামি এরই মধ্যে জামিনের ব্যাবস্থা করে এলাকায় ঘুরা ঘুরি করছেন, আসামীরা এখন ও গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভিক্টিমের মা,বাবা সহ স্থানীয় এলাকাবাসী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।সেই সাথে অপরাধীদের গ্রেপ্তার সহ কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Share This Post

Post Comment

%d bloggers like this: