অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে বাঁচতে সচেতন হোন, সচেতনমূলক কিছু পরামর্শ

বার্তা বিশেষ প্রতিবেদনঃ  আগুন এ যেন এক ভয়াবহ আতঙ্কের নাম। তাই আগুনকে বলা হয় সর্বভূক। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটে যাচ্ছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। অগ্নিকাণ্ডে নিমিষেই ছাই হয়ে যায় তিল তিল করে ঘড়ে তোলা অনেক মূল্যবান সম্পতি। সেই সাথে ঘটে প্রাণহানী। চোখের সামনে জলজ্যান্ত প্রাণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পুড়ে যায় বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আগুন লাগার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় আমাদের অবহেলা জনিত কারণে ঘটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। তবে বেশিরভাগ অগ্নিকাণ্ড ঘটছে বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে। তাই অগ্নিকাণ্ড থেকে বাঁচতে এখন সবার আগে যেটা প্রয়োজন, সেটা হলো আমাদের সচেতনতা।

অগ্নিকাণ্ড এড়াতে যে বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা বাঞ্চনীয়ঃ

. রান্নার পর গ্যাসের চুলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। অপ্রয়োজনে রান্নাঘরে গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখবেন না। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় একবার ঘুরে আসুন রান্নাঘর থেকে, নিশ্চিত হোন চুলাটা বন্ধ কিনা।

. বিড়ি-সিগারেট খাওয়া শেষে ভালোভাবে নিভিয়ে ফেলুন। বিড়ি-সিগারেট খাওয়া শেষে জ্বলন্ত অবস্থায় যেখানে সেখানে ফেলা থেকে বিরত থাকুন।

. গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের পূর্বে দেখে নিন সিলিন্ডারে কোন ত্রুটি বা  ছিদ্র আছে কিনা। সিলিন্ডারে লিকেজ থাকলে তা সারিয়ে নিন।

. উত্তপ্ত বা জ্বলন্ত ছাই যেখানে-সেখানে ফেলবেন না।

. অনেকেই চুলার উপর কাপড় শুকাতে দেন। গ্যাসের বা মাটির চুলা জ্বালিয়ে কাপড় শুকানো থেকে বিরত থাকুন।

. স্বল্পমূল্যের বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করবেন না।

শিশুদের চুলার কাছে যেতে দিবেন না। তারা যেন আগুন নিয়ে খেলা করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

৮. বৈদ্যুতিক সুইচবোর্ড বা মাল্টিপ্লাগের আশপাশে কাগজপত্র রাখাবেন না।

টিভি, ফ্রিজ, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, মোবাইল চার্জার ইত্যাদি প্রতিটি প্লাগের জন্য পৃথক সুইচসংবলিত মাল্টিপ্লাগ ব্যবহার করা উচিত। কাজ শেষ হলে বৈদ্যুতিক প্লাগে লাগিয়ে রাখবেন না।

১০. মশার হাত থেকে রক্ষা পেতে কয়েল ব্যবহার করেন অনেকেই। আপনার অজান্তে কয়েলের আগুন থেকে ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। তাই মশার কয়েলের পরিবর্তে মশারি ব্যবহার করুন।

অগ্নিকাণ্ডের সময় যা করবেনঃ

অগ্নিকাণ্ডের সময় অনেকেই হতাশ হয়ে যায়। দ্বিগবিদিক ছুটোছুটি করতে থাকে। স্থির থাকুন, বুদ্ধি খাটিয়ে বের হয়ে আসার চেষ্টা করুন।

২. বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুন লাগলে প্রথমেই মূল সুইচ বন্ধ করে দিন।

৩. গ্যাস লাইন বন্ধ করতে হবে।

দরজা, জানালা, সিঁড়ির অবস্থান ও দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার বিকল্প কোনো রাস্তা আগে থেকেই বের করে রাখতে হবে।

৫. হঠাৎ আগুন লাগলে কী করবেন, তার পূর্বপ্রস্তুতি থাকতে হবে। এ জন্য ঘরে আগুন লাগার ঝুঁকি আছে কি না,গ্যাস কিংবা দাহ্য বস্তু নিরাপদে রেখেছেন কি?

৬. বালতিতে পানি রাখুন ও তা আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার আগেই নেভানোর চেষ্টা করতে হবে।

৭. আগুনের কালো ধোঁয়া থেকে বাঁচতে তাৎক্ষণিক কাপড় ভিজিয়ে নাকে-মুখে চেপে ধরুন। ধোঁয়ার তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজনে ফ্লোরে শুয়ে পড়ুন।

৮. অগ্নিকাণ্ডের সময় বহুতল ভবনে আটকা পড়লে কাপড় উঁচিয়ে উদ্ধারকারী ফায়ার কর্মীদের দৃষ্টিআকর্ষণ করার চেষ্টা করুন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করুন এবং অগ্নিকাণ্ডের সংবাদটি তাদের কাছে দ্রুত পৌঁছান।

১০. জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ কল করে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদটি দিন। তাহলে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারবে।

অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে আসুন আমরা সচেতন ও সতর্ক হই। আমাদের সচেতনতাই পারে পরবর্তী নতুন কোন দুর্ঘটনার হাত থেকে আমাদেরকে রক্ষা করতে। দেখা যায় যে, আগুন লাগলে সাধারণ জনগণ ঘটনাস্থলের আশপাশে তীব্র ভিড় জমায়। উৎসুক জনতার এ ধরণের কর্মকাণ্ডে যেন উদ্ধারকর্মীদের কাজে কোন প্রকার ব্যাঘাত না ঘটে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আগুন লাগলে হতাশ না হয়ে কিছু কৌশল অবলম্বন করে অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে সাহায্য করুন।

Share This Post

Post Comment

%d bloggers like this: