চট্টগ্রামে কঠোর নিরাপত্তায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এসএসসি পরীক্ষা

বার্তা ডেস্কঃ  সারাদেশের সঙ্গে একযোগে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ১৯০টি কেন্দ্রে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। চট্টগ্রামে এবছর ১ হাজার ৩০টি স্কুলের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৬৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

সকালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন ও শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তারা, ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রসহ নগরীর কয়েকটি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।এসময় জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন জানান, প্রশ্ন ফাঁস বা এধরনের গুজব ঠেকাতে সব ধরনের ব্যাবস্থা এবার গ্রহন করা হয়েছে। এছাড়া এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে ১৭টি স্পেশাল ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশ্নপত্র খুব ভাল হয়েছে শিক্ষার্থীরা খুব সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা দিচ্ছে। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সিংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন পত্র ফাঁসের যে আশংকাটা থাকে সেটি চট্টগ্রামে নেই।

তাছাড়া প্রশ্ন পত্র ফাঁস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব রটানোর যে বিষয়টি পরীক্ষার আগে ঘটে আসছে সে বিষয়েও চট্টগ্রাম থেকে এখনো পর্যন্ত কোন খবর আমরা পাইনি। সার্বিক নিরাপত্তা ও ছাত্র ছাত্রীদের উপস্থিতি সব মিলিয়ে এবারের পরীক্ষা অত্যন্ত সুষ্ঠ পরিবেশেই শুরু হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন।

আজ শনিবার এসএসসি পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিনে সকাল ১০ টা থেকে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র, সহজ বাংলা প্রথম পত্র এবং বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রথম পত্র এবং মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে কুরআন মাজিদ ও তাজবীদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ভোকেশনালে বাংলা-১ ও বাংলা-২, দাখিল ভোকেশনালে বাংলা-২ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

এস এস সি পরীক্ষার প্রথম দিনে পরীক্ষা কেন্দ্রে পরিদর্শণে গিয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান জানালেন প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এবার অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের প্যাকেটে ভরে প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পাঠানো হয়।সেট কোড নির্দেশনা পাওয়ার পর সেটি পরীক্ষা শুরুর মাত্র ২৫ মিনিট আগে ট্যাগ অফিসার এবং পুলিশের উপস্থিতিতে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলেন কেন্দ্র সচিব। ফলে এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুযোগ নেই। বিভিন্ন মাধ্যমে কিছু গুজব ছড়িয়ে পড়লেও তা কিন্তু চট্টগ্রামে নেই উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা উৎসব মুখর পরিবেশেই তাদের পরীক্ষা দিচ্ছে বলে জানান।

জানা যায়, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় এবার ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৬৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। গেলো বছর পরীক্ষার্থীর এ সংখ্যা ছিলো ১ লাখ ৩৫ হাজার ২২১ জন। সে হিসেবে এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১৪ হাজার ৬৪৬ জন। ১ হাজার ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ১৯০টি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে।এরমধ্যে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার ৬৯৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ৪ হাজার ৩১০ জন শিক্ষার্থী ১১২টি কেন্দ্রে, কক্সবাজারের ১৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২১ হাজার ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবে।

এছাড়াও তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে রাঙামাটির ৮০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯ হাজার ২৭ জন শিক্ষার্থী ১৯টি কেন্দ্রে, খাগড়াছড়ির ৭৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০ হাজার ৭২০ জন শিক্ষার্থী ২১টি কেন্দ্রে এবং বান্দরবানের ৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪ হাজার ২৮২ জন শিক্ষার্থী ১২টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবে।

বরাবরের মতো এবারও ছেলে পরীক্ষার্থীর চেয়ে মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে। এ বছর ছেলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৮ হাজার ৭৫৯ জন। অন্যদিকে মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৮১ হাজার ১০৮ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পরীক্ষার্থী অংশ নেবে এ বছর। ৬৫ হাজার ২৭১ জন পরীক্ষার্থী এ বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়াও মানবিক বিভাগ থেকে ৫১ হাজার ৫৭ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩৩ হাজার ৫৩৯ জন পরীক্ষার্থী এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করছে।

Share This Post

Post Comment

%d bloggers like this: