সারা দেশে ঘন কুয়াশা,গাড়ি চলাচল ও ফেরী পারাপারে বিঘ্ন

বার্তা ডেস্কঃ  কুয়াশায় দৃষ্টি সীমা কমে আসায় রোববার সকালে সড়কে যানবাহন চালাতে হয় ধীর গতিতে। আর দক্ষিণের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ দুই ঘাটে ভোর থেকে ফেরি পারাপার বন্ধ থাকে কয়েক ঘণ্টা।

রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জের মাঝে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ভোর সাড়ে ৪টা এবং মুন্সীগঞ্জ ও মাদারীপুরের মাঝে শিমুলিয়া-কাঠাঁলবাড়ি নৌপথে ফেরি চলাচল রোববার ভোর ৬টায় বন্ধ হয়ে যায় ঘন কুয়াশার কারণে।

ফলে পদ্মা পারের এই চার ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় আটকা পড়ে হাজারখানেক যানবাহন। শীতের মধ্যে ভোগান্তি পোহাতে হয় যানবাহনে থাকা যাত্রীদের।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী ম্যানেজার আবু আবদুল্লাহ  রাজবাড়ী প্রতিনিধিকে বলেন, “নদীর মার্কিং পয়েন্ট ও বিকন বাতিগুলো কুয়াশায় ঠিকমত দৃশ্যমান না হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়।”

ঘাট ছেড়ে গেলেও কুয়াশায় এগোতে না পেরে এ সময় মাঝনদীতে নোঙর করে থাকে ছয়টি ফেরি। সকাল ১০টায় দৌলতদিয়া ঘাটে পাঁচ শতাধিক যানবাহনকে পারাপারের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়।
দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটের পরিচালক নুরুল আনোয়ার মিলন  মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিকে বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে তারাও ৩৩টি লঞ্চ দিয়ে পারাপার বন্ধ রাখেন।

কুয়াশা কমে এলে বেলা ১১টায় আবার এই নৌপথে পারাপার শুরু হয় বলে বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তা আবু আবদুল্লাহ জানান।

এদিকে কুয়াশায় এগোতে না পেরে শিমুলিয়া-কাঠাঁলবাড়ি নৌপথেও ভোরের শীতের মধ্যে পাঁচ শতাধিক যাত্রী নিয়ে মাঝ পদ্মায় আটকে থাকে চারটি ফেরি। শিমুলিয়া প্রান্তে অন্তত ২০০ গাড়িকে পারাপারের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়।

বিআইডব্লিউটিসির এজিএম খন্দকার শাহ নেওয়াজ খালেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিকে বলেন, “ভোরে ঘাটের চারপাশ কুয়াশায় ঢেকে গেলে বিকন বাতি দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। এ কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি বন্ধ রাখা হয়েছিল। কুয়াশা কমে আসায় সকাল সোয়া ১০টা থেকে আবার আমরা পারাপার শুরু করেছি।”
এদিকে কুয়াশার কারণে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় ভোরে যমুনার ওপর বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল প্লাজা আধা ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়।

বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব থানার ওসি মো. আছাবুর রহমান টাঙ্গাইল প্রতিনিধিকে বলেন, “কুয়াশার কারণে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে টোল আদায় বন্ধ করে দেওয়া হলে কিছু গাড়ির লাইন পড়েছিল। তবে ৬টার দিকে আবার টোল আদায় শুরু হলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।”

ঢাকাসহ দেশে বেশিরভাগ এলাকাতেই ভোর থেকে কুয়াশার এই দাপট চলে। টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে এই আবহাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ে মানুষ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী রোববার ঢাকায় সূর্যোদয় হয়েছে ৬টা ৪৫ মিনিটে। তবে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা মেলেনি।
উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগের হিমেল হাওয়ার মধ্যে নদী অববাহিকাগুলো ঢাকা পড়েছে মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশায়।

আবহাওয়া অফিস বলছে, সাতক্ষীরা, যশোর, কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইল, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ অঞ্চলসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারী মাত্রার শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এই শৈত্যপ্রবাহ চলার পর রোববার থেকে দেশের কোনো কোনো এলাকার পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

Share This Post

Post Comment

%d bloggers like this: