জাতীয় জাদুঘরে চলছে বয়নচিত্র প্রদর্শনী

অপরাধ বার্তা প্রতিবেদক ঢাকাঃ  উল, কটন আর পাটের বাহারি রংয়ের সুতার বুননের মধ্যে দিয়ে সৃষ্টি নানন্দিক শিল্পকর্মই হলো-বয়নশিল্প। এই শিল্পকর্ম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন শিল্পী মো. তাজুল ইসলাম। তারই সৃষ্ট দৃষ্টিনন্দন শতাধিক বয়ন শিল্পকর্ম নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে শুরু হয়েছে নয় দিনের ‘বয়নচিত্র প্রদর্শনী ও কর্মশালা’। ‘বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও ট্যাপেস্ট্রি এন্ড পেইন্টিং স্টুডিও’-এর যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে এই প্রদর্শনী ও কর্মশালা।

এ উপলক্ষে গ্যালারি প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় উদ্বোধনী আয়োজন। এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন চিত্র সমালোচক ও লেখক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক শিল্পী আলাউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন শিল্পী মো. তাজুল ইসলাম। এছাড়াও এ আয়োজেন উপস্থিত ছিলেন-জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টিবোর্ডের সভাপতি শিল্পী হাশেম খান ও কবি কাজী রোজি।

জাতীয় জাদুঘরের জনশিক্ষা বিভাগের কীপার ড. শিহাব শাহরিয়ারের স্বাগত বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় উদ্বোধনী আয়োজন। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, রশিদ চৌধুরীর মাধ্যমে এই শিল্পের বিস্তার এদেশে, কয়েকশত বছরের পুরোনো এবং শিল্পী তাজুল ইসলামকে এই শিল্পচর্চার বিকাশে অবদানের জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।

অধ্যাপক শিল্পী আলাউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদেরকে বলেন, শতরঞ্জি এদেশের ৫০০ বছরেরও পুরোনো ঐতিহ্য। ট্রাপেস্টি এমন একটি মাধ্যম যাতে কাজ করতে দরকার প্রচুর সাবধানতা ও দক্ষতা। রংপুর অঞ্চলে শতরঞ্জি শিল্পের মাধ্যমটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য জাদুঘরের এই প্রচেষ্টাকে তিনি সাধুবাদ জানান।

প্রধান অতিথি নজরুল ইসলাম বলেন, বয়ন শিল্পে আমাদের দেশের বিখ্যাত শিল্পী রশীদ চৌধুরীর যোগ্য শিষ্য হলেন তাজুল ইসলাম। অকালে রশীদ চৌধুরী চলে যাওয়ায় এ শিল্পের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। জীবদ্দশায় রশীদ চৌধুরী আমাদের লোকজ সংস্কৃতির নানা উপসর্গ এ বয়নশিল্পের মাধ্যমে তুলে এনেছিলেন। যেমন- বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র, ধর্মীয় প্রতীক, পাখি, ফুল, গ্রাম বাংলায় ব্যবহৃত নানা তৈজসপত্র ইত্যাদি। জাতীয় সংসদের দেয়ালেও এ শিল্পীর বিশাল এক ট্যাপেস্ট্রি শোভা পাচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বলেন, জাদুঘরের বিভিন্ন কর্মকান্ডের ধারাবাহিকতার একটি অংশ আজকের এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠান। কিছুদিন পূর্বে শীতলপাটি ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি লাভ করেছে। তিনি আরো বলেন, বয়নচিত্রে শিল্পী মাধ্যম স্থানান্তর করেছেন অত্যন্ত নিপুণতার সাথে।

জাদুঘরের শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদ সামসুল করীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের সবশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রদর্শনীর শিল্পী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, জাদুঘরের নলিনীকান্ত প্রদর্শনী গ্যালারিতে তার প্রদর্শনী অনুষ্ঠানটি করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত।

বয়ন শিল্পের এ প্রদর্শনী ও কর্মশালা চলবে আগামী ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০ থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

Share This Post

Post Comment