ঢাকা ১৮ আসনে বড় দু’দলেই নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে ব্যাস্ত সম্ভাব্য প্রার্থীরা

কে হচ্ছেন বড় দু’দলের প্রার্থী!

বি এম রফিকুল ইসলাম বাবু, ঢাকাঃ  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে ঢাকা-১৮ আসনে ততই বাড়ছে বিভিন্ন দলীয় প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ, বর্তমান সংসদের বিরোধীদল জাতীয় পার্টি, বিএনপিসহ অন্যান্য দলের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে যে যার মত প্রচার প্রচারনাও চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা জেলার সর্ব উত্তরে এ আসনটি অবস্থিত একটি অভিজাত এলাকা।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে সীমানা পুনর্বিন্যাসের সময় উত্তরা ও এর আশপাশের ৮টি থানার সমন্বয়ে গঠিত হয় ঢাকা-১৮ নির্বাচনী আসনটি । দেশের বিভিন্ন জেলার উচ্চবৃত্ত, উচ্চ মধ্যবৃত্তসহ বিভিন্ন দেশী বিদেশী ব্যবসায়ী ও আমলাদের বসবাস এ এলাকায়। এছাড়াও হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, র‌্যাব ও এপিবিএন’র প্রধান কার্যালয় এবং হজ ক্যাম্পের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার রয়েছে এখানে। অপরদিকে দৃষ্টি নন্দন কুড়িল ফ্লাই ওভার দৃশ্যমান হওয়াসহ নির্মানাধীন রয়েছে ৪৭ কিলোমিটার ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বিআরটি, এমআরটিসহ নানান প্রকল্প। নগর সম্প্রসারণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাস্তাঘাটের প্রয়োজনীয়তাসহ ড্রেনেজ ও সুয়ারেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির চাহিদা। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বড় দুই রাজনৈতিক দলেই একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন এ আসনে।

পঞ্চম জাতীয় নির্বাচনে তৎকালীন ঢাকা-৫ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার ছেড়ে দেয়া আসনে উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপি’র মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ সংসদে বিজয় ধরে রাখলেও একই সালে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের একেএম রহমতউল্লাহর কাছে পরাজিত হন। অষ্টম সংসদে রহমতউল্লাহকে হারিয়ে তৃতীয় মেয়াদে ফের এমপি হন মেজর (অব.) কামরুল।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচনের আগে সীমানা পুনর্বিন্যাসে ঢাকা-৫ (সাবেক)-এর উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, তুরাগ, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও ভাটারা থানার একাংশের সমন্বয়ে গঠিত হয় ঢাকা-১৮। তখন এ আসনে ভোটের লড়াইয়ে নামেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী এডভোকেট সাহারা খাতুন ও বিএনপি’র প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল। এতে বিজয়ী হন এডভোকেট সাহারা খাতুন। এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে প্রথমে স্বরাষ্ট্র এবং পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দশম সংসদেও প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রবীন এ আওয়ামীলীগ নেতা।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার পক্ষে দলের নেতাকর্মীরা প্রচারণা চালালেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ হাবিব হাসান, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং দক্ষিন খান আদর্শ ইউনিয়ন পরিষদের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান এস এম তোফাজ্জল হোসেন।

বর্তমান সাংসদ ও আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট সাহারা খাতুন বলেন, আমি সারা বছরই নির্বাচনী প্রস্তুতির মধ্যেই আছি। যেদিন জয়ী হয়েছি তার পরদিন থেকেই নতুন করে এলাকাবাসীর সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। নির্বাচনে প্রতিদ্বদ্বিতা করে বিজয়ী হওয়ার জন্য যে প্রস্তুতির দরকার তা আমার আছে এবং প্রতিনিয়তই সে প্রস্তুতি নিচ্ছি। নির্বাচনী এলাকার সমস্যা ও সমস্যা সমাধানে নেয়া নানা উদ্যোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, ঢাকা-১৮ আসনের উন্নয়নে আমি নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। হজক্যাম্প এলাকায় বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ, বঙ্গমাতা সরকারী হাইস্কুল, উত্তরখানে একটি সরকারি স্কুল, উত্তরা ৬ নম্বও সেক্টরে সরকারী হাসপাতাল, পাসপোর্ট অফিস, ফায়ার ব্রিগেড ও কর্মসংস্থান ব্যাংকের শাখা প্রতিষ্ঠা করেছি। ঢাকা উইমেন্স কলেজের ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করেছি। আমার সময়ে আমার সরকারের কাছে চেয়ে এনেছি উত্তরায় মেট্রোরেল ও ফ্লাইওভার আর তা বাস্তবায়নে ইতিমধ্যেই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, উত্তরা-নিকুঞ্জ-খিলক্ষেতসহ এলাকার নতুন রাস্তাা নির্মাণ ও পুরাতন রাস্তার সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। রাস্তাঘাট তো স্থায়ী নয়- বর্ষাকালে একটু আধটু নষ্ট হয়। রাস্তাঘাট ভাঙবে আর তা মরামত করতে হবে এটাই স্বাভাবিক। এ মেরামতের উদ্যোগ নেয়ার দায়িত্ব আমার এবং আমি কোনোদিন দায়িত্বের ব্যাপারে উদাসীন নই। তাছাড়া আমার এলাকায় দলের কর্মী সমর্থকদের ভালবাসা ও সমর্থন আমার পক্ষে আছে এবং থাকবে এটাই আমার বিশ্বাস। আমার সংগঠন আমাকে মনোনয়ন দিলে এলাকার সাধারন জনগন অবশ্যই আমাকে ভোট দিয়ে আবার নির্বচিত করবে। এবং আমি আমার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কর্ম অব্যহত থাকবে। স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে এ আসনকে একটি আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলব ইনসা আল্লাহ।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার মেয়ে নাজমা ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন। ’৮৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে রোকেয়া হল ছাত্রী সংসদের জিএস নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে তার হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয় যুব মহিলা লীগ। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক নাজমা আক্তার পরের সম্মেলনগুলোতে নির্বাচিত হয়ে এখন সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ভেতরে ভেতরে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও লবিং শুরু করেছেন তিনিও।

এছাড়াও মনোনয়ন চাইবেন উত্তরা আওয়ামীলীগের কয়েকবারের সাধারন সম্পাদক ও মহানগর উত্তর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক হাবিব হাসান।
দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নিজেকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক হাবিব হাসান বলেন, ১৯৮৩ সালে আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে মুল সংগঠন আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে যোগদান করি। এর আগে ছাত্র ও যুব রাজনীতির মধ্যদিয়ে দলের জন্য কাজ করেছি। মুল সংগঠনে যোগদানের পর কয়েকবার বৃহত্তর উত্তরা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে দলকে সংগঠিত করার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। এরই ধারাবাহিকতায় নিজের যোগ্যতার কারনে এবার আমাকে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করেন। স্থানীয় জনমত আর দলীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্ধের আশীর্বাদে এবার আমার নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে এ ১৮ আসনে দলীয়ভাবে যদি আসন্ন একাদ্বশ সংসদ নির্বাচনে লড়ার অনুমতি দেন তবে নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়ন অব্যহত রাখতে কাজ করব। যদি দল আমাকে মনোনয়ন নাও দেন তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আমার প্রিয় দলের সভানেত্রী যাকেই মনোনীত করেন তার পক্ষেই সক্রীয় ভাবে কাজ করে যাব।

অপরদিকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও দক্ষিণখান আদর্শ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম তোফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, ১৯৬৮ সাল থেকে বড়ভাই এস এম মোজাম্মেল হকের হাত ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতির মধ্যদিয়ে শুরু আমার পথচলা। এরপর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রীয় অংশগ্রহন করি। বেশ কয়েকবার বৃহত্তর উত্তরা আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করি দীর্ঘদিন। বর্তমান সাংসদ এড. সাহারা খাতুন আমাদের প্রিয় সিনিয়র নেত্রী। দলের রাজনীতি এবং এলাকার উন্নয়নে তিনিও সচেষ্ট। কিন্তু বয়সের কারণে আগের মতো দৌড়ঝাঁপ করতে পারেন না। এছাড়াও তিনি রাজধানী ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় বসবাস করেন। যে কারনে স্থানীয় সাধারন জনগন বিভিন্ন সভা- সমাবেশ ছাড়া তেমন ভাবে তাকে কাছে পান না। তাছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে সম্পসারনের লক্ষে এই দক্ষিনখান আদর্শ ইউনিয়ন পরিষদকে তার আওতায় নেয়া হয়েছে। আমার দীর্ঘ আওয়ামী রাজনীতিতে সফলতার সুবাদে গুলশান থানা যুবলীগের সম্পাদক হিসেবেও দ্বায়িত্ব পালন করেছি। আওয়ামীলীগের বিভিন্ন দুঃসময়ে দলের পাশে থেকে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছি। আমার প্রিয় সংগঠন আওয়ামীলীগ বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তরের বন ও পরিবেশ বিষয়ক পদ দিয়ে আমাকে সন্মানিত করেছেন শীর্ষ নেতৃবৃন্ধ। মাননীয় জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে একটি আইটি ইনিষ্টিটিউট, বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম বিকাশের লক্ষে এস এম মোজাম্মেল হক শিক্ষা কমপ্লেক্সও গড়ে তুলেছি। আমি শিক্ষা বান্ধব, মাদক ও চাঁদাবাজ মুক্ত এ ঢাকা ১৮ আসনকে উন্নত রাষ্ট্রের আদলে সাজিয়ে তোলার প্রত্যয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। দল যদি আমাকে মনোনীত করে তবে ইনসা আল্লাহ আমাদের বিজয় অব্যহত রাখবো। তাছাড়া দল যাকেই মনোনয়ন দিবে তাকেই বিজয়ী করতে সচেষ্ট ভুমিকা রাখবো।

অন্যদিকে বিএনপিতে আগামী একাদশ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে তিন নেতাকে কেন্দ্র করে। তারা হলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম, সাবেক বাংলাদেশ ছাত্রদলের সভাপতি ও বর্তমান যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর ও তরুণ ব্যবসায়ী নেতা বাহাউদ্দিন সাদী। বিএনপি’র রাজনীতিতে একটি প্রভাবশালী চরিত্র মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম। খালেদা জিয়ার ছেড়ে দেয়া আসনে উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হওয়া এ নেতা পরে ষষ্ঠ ও অষ্টম সংসদেও প্রতিনিধিত্ব করেন। নানান জটিলতার কারণে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি তিনি। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের একজন সম্ভাব্য প্রার্থী বিএনপির এ প্রভাবশালী নেতা। মহানগর উত্তর বিএনপি’র নেতা কর্মীরা ইতিমধ্যেই তার পক্ষে প্রাথমিক প্রচারণাও শুরু করেছেন।

অন্যদিকে ওয়ান-ইলেভেনের পর থেকে প্রথমে ছাত্রনেতা ও পরে যুবনেতা হিসেবে মহানগর উত্তরের রাজনীতিতে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেন যুবদল মহানগর উত্তরের সভাপতি শরীয়তপুরের সন্তান এসএম জাহাঙ্গীর। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী আজিজুল বারী হেলালের পক্ষে বড় ভূমিকা রাখেন। পরের নির্বাচনেই এ আসন থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ওঠে আসে এস এম জাহাঙ্গীরের নাম। বিএনপি’র বিভিন্ন কর্মসুচী কিংবা খালেদা জিয়ার উত্তরাঞ্চল-দক্ষিণাঞ্চল সফরকে কেন্দ্র করে নানা সময়ে এস এম জাহাঙ্গীরের অনুসারীদের বিপুল শোডাউন ছিল চোখেপড়ার মতো। ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বর্তমান সরকারের আমলে আসামি হয়েছেন দেড় শতাধিক মামলার। জেল ও খেটেছেন বেশ কয়েকবার। কিন্তু তার বিরুদ্ধে দলের পক্ষ থেকেই অভিযোগ ছাত্রদল ও যুবদল দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে চান উত্তরাসহ ঢাকা- ১৮ আসনের বিএনপি’র রাজনীতি। সর্বশেষ জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দু’পক্ষের সংঘাতের ঘটনায় তার দিকে ওঠে অভিযোগের আঙুল। বিষয়টি স্থানীয় বিএনপিতে কিছুটা হলেও গ্রহণযোগ্যতা কমিয়েছে তার। তারপরও ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি’র টিকিট পাওয়ার শক্ত দাবিদার তিনি।

ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি’র রাজনীতিতে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে নতুন আরো একটি নাম। তিনি হলেন তরুণ ব্যবসায়ী নেতা বাহাউদ্দিন সাদী। সক্রীয় রাজনীতিতে তার আগমণ সাম্প্রতিক হলেও তিনি যুক্ত হয়েছেন দলের দুঃসময়ে। যার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাংশের আস্থাও অর্জন করেছেন স্বল্প সময়ে। আগামী একাদশ নির্বাচনে তিনিও ঢাকা-১৮ আসন থেকে বিএনপি’র টিকিট প্রত্যাশী হিসেবে আশাবাদী তিনি।

বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী এসএম জাহাঙ্গীর বলেন, ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে আমার পথচলা শুরু। তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, কলেজ সংসদের ভিপি, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের আহ্বায়ক-সভাপতি, মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে ধারাবাহিক দায়িত্ব পালন করে এখন মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছি। তিনি বলেন, আমি দুই দশকের বেশি সময় ধরে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের স্থায়ী বাসিন্দা। রাজনৈতিক কর্মকান্ডসহ সামাজিকভাবে এলাকাবাসীর সঙ্গে আমার একটি আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ঢাকা-১৮ আসনের অধীন প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গদলের সকল নেতাকর্মীই আমার সঙ্গে রয়েছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক পেলে আমি বিজয়ী হয়ে সেটার সম্মান রাখতে পারবো। আর আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়েই আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে আমাদের এ আসনে প্রান্তিক তৃণমুল বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবিশ্বাস্য রকম দুঃসময় পার করছে। আমরা আপাতত এই দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং পাশাপাশি দলকে সাংগঠনিকভাবে আরও সুনির্দিষ্ট কওে গোছানোটাই প্রাধান্য দিচ্ছি।

তবে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী বাহাউদ্দিন আহম্মেদ বাবুল নিজেকে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা- ১৮ আসনে একক প্রার্থী হিসেবে দাবি করে বলেন, আমার দলে কোন কোন্দল নেই তাই সংগঠন থেকে আমাকেই প্রার্থী হিসেবে এ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করতে বলেছেন। আমি নির্বাচনের জন্য সব সময়ই প্রস্তুত। যদি কোন কারচুপির নির্বাচন না হয় তবে আমিই বিজয়ী হব এ আসনে। কারন আমার ব্যক্তিগত ইমেজ আর দলের পূর্ন সমর্থন আমার পক্ষে আছে।

Share This Post

Post Comment

%d bloggers like this: