রোহিঙ্গাসহ সব রাষ্ট্রহীনদের “নাগরিকত্ব দিতে হবে”

ডেস্কঃ  বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড ন্যাশন হাইকমিশনার ফর রিফিউজিস (ইউএনএইচসিআর)। তারা জানায়, বিশ্বের ৩০ লাখেরও বেশি মানুষের কোনও রাষ্ট্রীয় পরিচয় নেই। তারা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত। শুক্রবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে একথা জানা যায়।

‘দিস ইজ আওয়ার হোম’ –স্টেটলেস মাইনোরিটিস এন্ড দেয়ার সার্চ ফর সিটিজেনশিপ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন এই আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর। তারা বিভিন্ন সরকারগুলোর প্রতি ২০২৪ সালের মধ্যে এই বৈষম্য দূর করারও আহ্বান জানিয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতার পর রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ চালানো শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। তাদের মুখ থেকে জানা যায়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বর্বরতার কথা।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পরিচালক ক্যারোল ব্যাচেলর বলেন, ‘আপনি এই পৃথিবীতে নাগরিকত্ব ছাড়া বসবাস করা মানে হচ্ছে আপনার কোনও পরিচয় নেই। কোনও নথি নেই। কোন অধিকার নেই।’

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর  উচিত তাদের ভূখন্ডে জন্ম নেওয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়া। নাহলে তারা রাষ্ট্রহীন থাকবে এবং এভাবেই থেকে যাবে।

অন্যান্য নাগরিকত্বহীন গোষ্ঠীদের মধ্যে সিরিয়ার কুর্দ, মাদাগাসকারের কারানা, সাবেক যুগোস্লোভিয়া প্রজাতন্ত্রের রোমা ও কেনিয়ার পেমবাকে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। ব্যাচেলর বলেন, ‘আমরা নিশ্চিতভাবেই বলতে চাই বিশ্বের ৩০ লাখ মানুষ নাগরিকত্ব পরিচয়হীন। তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া প্রয়োজন।’

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী তাদের নাগরিকত্ব অধিকার থেকে বঞ্চিত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু ফলাফলের দিতে তাকাতে পারি। মিয়ানমারের একটা নাগরিকত্ব আইন আছে। তারা যাদের মিয়ানমারের নাগরিক বলে মনে করা হয় তাদেরকেই ওই তালিকায় শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। ওই তালিকায় রোহিঙ্গাদের নাম নেই।’

২০১২ সাল থেকে থাইল্যান্ডের প্রায় ৩০ হাজার রাষ্ট্রহীনকে নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়েছে। কেনিয়ার মাকোন্দের প্রায় চার হাজার জনকেও গত বছর নাগরিকত্ব দেওয়া হয়।

ব্যাচেলর বলেন, ‘আমরা থাইল্যান্ড, রাশিয়া ও পশ্চিম আফ্রিকার উন্নতি দেখছি। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তার খুবই কম। আমরা দেখতে চাই, ২০২৪ সালের মধ্যে সমস্ত রাষ্ট্রহীন লোকজন যেন নাগরিকত্ব পেয়েছে।’

 

সূত্র: রয়টার্স

Share This Post

Post Comment

%d bloggers like this: