অস্ট্রেলিয়ার ভিসা হয়েছে বিচারপতি সিনহার

স্টাফ রিপোর্টারঃ বিচারপতি সিনহা ও তার স্ত্রী সুষমা সিনহা তিন বছরের ভিসা পেয়েছেন বলে আদালতের একটি সূত্র জানিয়েছে।

“প্রধান বিচারপতি ও তার স্ত্রী শিগগিরই অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন। সেখানে বসবাসরত বড় মেয়ে সূচনা সিনহার কাছে উঠবেন তারা।”

গত অগাস্টে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় প্রকাশের পর ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে পড়েন বিচারপতি সিনহা।

ওই রায়ে সংসদ, গণতন্ত্র ও বঙ্গবন্ধুকে খাটো করা হয়েছে দাবি করে বিচারপতি সিনহার অপসারণ দাবিতে সর্বোচ্চ আদালতের অবকাশ শেষে আন্দোলনের ঘোষণা ছিল আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের।

এক মাস অবকাশের পর গত মঙ্গলবার আদালত খোলার দিনই প্রধান বিচারপতির ছুটিতে যাওয়ার খবর প্রকাশ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম; তারপর আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও একই কথা জানান।

বিচারপতি সিনহার অবর্তমানে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা প্রধান বিচারপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

প্রধান বিচারপতিকে ‘প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে’ ছুটিতে যেতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা।

প্রধান বিচারপতি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটির আবেদন করেছেন উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক যে দরখাস্ত সংবাদমাধ্যমের সামনে এনেছেন, সেটাকে ভুয়া বলছেন তারা।

ওই আবেদনে বিচারপতি সিনহার যে স্বাক্ষর, তার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ।

ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়াগত কাজ সারতে গত বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়া দূতাবাসে গিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি। সে সময় বিষয়টি প্রকাশ না করা হলেও সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ বলেছিলেন, প্রধান বিচারপতিকে ‘জোর করে’ ছুটি দেওয়ার পর বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পাওয়া বিচারপতি সিনহার চাকরির মেয়াদ রয়েছে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। কয়েক মাস আগে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দেওয়ার পর থেকে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনার মুখে রয়েছেন তিনি।

বিচারপতিদের অসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের এই সংশোধন এনেছিল বর্তমান সরকার। হাই কোর্ট ওই সংশোধন বাতিলের পর আপিল বিভাগও একই রায় দেয়।

ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি সংসদ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে খাটো করেছেন বলে অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও সংসদ সদস্যরা। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন কেউ কেউ।

অন্যদিকে জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার আমলে প্রতিষ্ঠিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ফিরিয়ে আনার এই রায়কে স্বাগত জানায় বিএনপি।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং তার কিছু পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়।

ওই প্রস্তাব পাসের আগে সংসদে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আদালত তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে সংসদে আনা সংবিধান সংশোধন বাতিলের এই রায় দিয়েছে।

‘সংসদ ও গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করে’ এই রায় দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সরকার প্রধান।

রায় নিয়ে সমালোচনার মুখে বিচারপতি সিনহা আদালতে শুনানিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে অযোগ্য ঘোষণা করে সে সেদেশের সুপ্রিম কোর্টের রায় দেওয়ার পরের পরিস্থিতির দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছিলেন, বিচার বিভাগ যথেষ্ট ধৈর্য ধরেছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করায় নতুন করে সমালোচনার প্রেক্ষাপটে পরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি বলেন, তাকে ‘মিসকোট’ করে প্রকাশিত বক্তব্যের কারণে তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।

আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ষোড়শ সংশোধন বাতিলের ওই রায়কে ‘ভ্রমাত্মক’ বলেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করবেন জানিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এতে তারা ‘কামিয়াব’ হবেন বলে আশা করছেন।

Share This Post

Post Comment