রেলের প্রকল্পে কচ্ছপ গতি চলছে

 

ডেস্কঃ  কচ্ছপ গতিতে চলছে বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম। এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৫৩টি প্রকল্পের ২২টির বাস্তবায়ন অগ্রগতি সর্বসাকুল্যে ২৫ শতাংশের নিচে। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১৫টির টেন্ডার আহ্বান করার পর কোনো ধরনের অগ্রগতি ছাড়াই ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া, গত সাত বছর আগের নেওয়া রামু থেকে ঘুনধুম পর্যন্ত রেল প্রকল্পের সর্বসাকুল্যে অগ্রগতি এখন পর্যন্ত ৩ শতাংশের নিচে।

একইভাবে বিআইডব্লিউটিসির দিলকুশাস্থ মতিঝিলের বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ৭৩ লাখ টাকা ব্যয় হলেও অগ্রগতি মাত্র ২ শতাংশ। প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি না হওয়ায় একদিকে যেমন উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, অপরদিকে যথাসময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় ব্যয় বাড়ছে অস্বাভাবিকভাবে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়গুলোর সক্ষমতা নিয়েও নানা প্রশ্ন ওঠা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে প্রকল্প পরিচালকদের যোগ্যতা নিয়েও। অনুমিত হিসাবসম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সম্প্রতি এক বৈঠকের কার্যবিরণীতে মন্ত্রণালয়টির প্রকল্পের কাজের অগ্রগতির এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

রেল মন্ত্রণালয়ের নেওয়া প্রকল্পগুলোর বাস্তব চিত্র দেখে সংসদীয় কমিটির সদস্যরা তীব্র অসন্তোষ জানান। তারা বলেছেন, এভাবে কচ্ছব গতিতে কাজ চলতে থাকলে সরকারের নেওয়া অনেক অর্জন ম্লান হতে পারে।

কার্যবিবরণীর তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রেলপথের ৫৩টি প্রকল্পের মধ্যে বেশিরভাগেরই কাজের অগ্রগতি ২৫ শতাংশের কম। চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে ঘুনধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। এতে বাংলাদেশ সরকারের থাকবে ৪ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা এবং এডিবি দেবে ১৩ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। চলতি বছর এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৩১৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আগামী অর্থবছরে প্রকল্পে ৬১৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি গত ৭ বছরে ২ দশমিক ৮০ শতাংশ। প্রকল্পের মাধ্যমে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের নিকটবর্তী ঘুনধুম পর্যন্ত ২৮ দশমিক ৭৫ কিলোমিটারসহ মোট ১২৯ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণের মাধ্যমে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের যোগাযোগ স্থাপনসহ ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হবে।

প্রকল্পের বিষয়ে রেলওয়ের চিফ প্ল্যানিং অফিসার বলেন, এই প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা থাকলেও অর্থায়ন থেকে সংস্থাটি সরে দাঁড়ানোয় কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ে। পরে পিপিপিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়, কিন্তু সেটিও বাতিল হয়ে যায়। বর্তমানে এডিবিতে বাস্তবায়নের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়ে সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, এই মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন সন্তোষজনক নয়। অনেকগুলো প্রকল্প পুনর্বিবেচনা করে ব্যয় কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। যদি সঠিকভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, তাহলে প্রকল্প রিভাইস করে ব্যয় বাড়ানোর যৌক্তিকতা থাকে না।

Share This Post

Post Comment