জাতীয় পার্টি নিয়ে রশি টানাটানি= ইসিতে এরশাদের নালিশ

ডেস্কঃ  কাজী জাফর আহমদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে নালিশ দিয়েছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। কাজী জাফরের মৃত্যুর পর টি আই এম ফজলে রাব্বি চৌধুরী নিজেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির পরিচয় ব্যবহার করায় আপত্তি তুলছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরশাদ।

‘লাঙল’ প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টি ১২ নম্বর দল হিসেবে ২০০৮ সালের ৩ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে ‘ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে’ জাপা চেয়ারম্যান লেখেন, জাতীয় পার্টি নিবন্ধিত একটি দল। এর নাম ব্যবহার করে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পরিচয় দেওয়ায় প্রধান বিরোধী দল জাপার সম্মানহানি ঘটছে। একটি কুচক্রী মহল জাপা’র নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ অবস্থায় ‘অন্য কেউ যাতে জাতীয় পার্টির নাম ব্যবহার করতে না পারে ও ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এরশাদ। জাতীয় পার্টির আরও তিনটি অংশের মধ্যে ২০০৮ সালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি-জেপি বাই সাইকেল প্রতীকে (নিবন্ধন নম্বর ২) ২০ অক্টোবর; আন্দালিব রহমান নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি গরুর গাড়ি প্রতীকে (নিবন্ধন নম্বর ১৮) ৯ নভেম্বর ও প্রফেসর তাসমিনা মতিন নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি কাঁঠাল প্রতীকে (নিবন্ধন নম্বর ২৮) ১৬ নভেম্বর ইসিতে নিবন্ধন পায়।

এরই মধ্যে ২০১৪ সালে লাঙল প্রতীক, দলের লগো একই রেখে কাজী জাফর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির আত্মপ্রকাশ ঘটে। গত শতকের ষাটের দশকের ছাত্রনেতা এবং পরে চীনপন্থী বাম নেতা হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিতি পাওয়া কাজী জাফর শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জিয়াউর রহমানের আমলে। পরে সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের হাত ধরে তার সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন। দীর্ঘ তিন দশক এরশাদের বিশ্বস্তজন হিসেবে জাতীয় পার্টির সঙ্গে থাকার পর ২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর মতবিরোধের কারণে কাজী জাফরকে দল থেকে বহিষ্কার করেন এরশাদ।

এরপর দলের একাংশকে নিয়ে জাতীয় পার্টি নামেই নতুন দল গঠন করে পরের বছর ২৫ জানুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেন কাজী জাফর।
২০১৫ সালে কাজী জাফরের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পান এরশাদের জাপার সাবেক প্রেসিডিয়াম সদম্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী টি আই এম ফজলে রাব্বি চৌধুরী ও মহাসচিব হন মোস্তফা জামাল হায়দার।

এরশাদ ১১ সেপ্টেম্বর সিইসিকে জানান, আমার জাতীয় পার্টি একটি বৈধ রাজনৈতিক দল। নাম ও প্রতীক ইসির আইন দ্বারা সুরক্ষিত কিন্তু আমি লক্ষ্য করছি- টি আই এম ফজলে রাব্বি চৌধুরী নিজেকে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে বিবৃতি দিচ্ছেন, জনসমক্ষে জাতীয় পার্টির নাম ব্যবহার করছে। এর ফলে দেশের বর্তমান প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সম্মানহানি ঘটছে।

এরশাদ বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামে যেমন দ্বিতীয় কোনো রাজনৈতিক দল থাকতে পারে না। তেমনি জাতীয় পার্টি নামেও আর কোনো দল থাকতে পারে না। অথচ একটি কুচক্রীমহল জাতীয় পার্টির নীতি-আদর্শকে কলুষিত করতে অসৎ উদ্দেশ্যে আমার পার্টির নাম ব্যবহার করে দেশবাসীর মধ্যে বিভ্রান্তির অপচেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) ইসির সহকারী সচিব (নির্বাচন সমন্বয়) রৌশন আরা বেগম বলেন, “জাপা চেয়ারম্যানের অভিযোগটি তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছে ইসি। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে ঢাকা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্যে বলা হয়েছে।” কাজী জাফরের জাতীয় পার্টি ইসিতে নিবন্ধনেরও আবেদন করে নি বলে জানান তিনি।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, নিবন্ধিত দলের বাইরে অনিবন্ধিতদের বিষয়ে ইসির করার কিছুই থাকে না। চারটি জাতীয় পার্টি একই নামে কমিশনে নিবন্ধন আবেদন করলে শুনানি করে তাদেরকে আলাদা আলাদা নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়েছে।

নতুন জাতীয় পার্টিও নিবন্ধনের আবেদন করলে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে ইসি। জাতীয় পার্টির মিডিয়া দেখভালকারী ও প্রয়াত কাজী জাফরের ব্যক্তিগত সহকারী গোলাম মোস্তফা জানান, কাউন্সিলের মাধ্যমেই জাতীয় পার্টির নাম ও প্রতীক ব্যবহারসহ ২০১৪ সালে নতুন দলের আত্মপ্রকাশের পর সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য টি আই এম ফজলে রাব্বি চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়েছে। পরবর্তী কাউন্সিলে একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিবন্ধনের জন্য প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নামে অভিযোগ ও জাপার নাম ব্যবহার নিয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির একাংশের মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, “একই নাম নিয়ে আসলেই সমস্যা হচ্ছে। আমরা শিগগির কমিশনে নিবন্ধনের আবেদন করবো। আশা করছি, আলোচনা করেই নিশ্চয়ই একটি সমাধান বের হবে।”

Share This Post

Post Comment