হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে দক্ষিণখানে কোচিং বানিজ্য রমরমা

 কাজি আরিফ হাসান, শামিম চৌধুরী, মিজানুর রহমান।। শিক্ষা জাতির মেরু দন্ড। একটা শিক্ষিত জাতি দিতে পারে একটা উন্নত দেশ। এক জন শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর এগুলি এখোন শুধু মুখে মুখে। যে ভাবে কোচিং বানিজ্য শুরু হয়েছে ঢাকা শহর সহ সারা বাংলাদেশে কি ভাবে একটা শিক্ষিত জাতি টিকে থাকবে বিশ্বের দরবারে ? রাজধানীর দক্ষিণখানে (দক্ষিখান বাজার,আশকোনা,প্রেমবাগান,হলান,সরদার পাড়া,মোল্লারটেক) এলাকার ওলিতে-গলিতে রাতা-রাতি গড়ে উঠেছে কোচিং সেন্টার। সরেজমিনে খোজ নিয়ে জানতে পারাযায় এসব কোচিং সেন্টারের মধ্যে দি ব্রাইট ফিউচার কোচিং সেন্টার (মোল্লারটেক),গাওয়াইর আইডিয়াল একাডেমিক কেয়ার (গাওয়াইর মাদ্রাসারোড,৩য় তলা) ইয়ানুর কোচিং হোম (গাওয়াইর মাদ্রাসা রোড),গাইড লাইন কোচিং সেন্টার (মোল্লার টেক), রেঁনেসা কোচিং সেন্টার,উত্তরা কোচিং হোম (কাজি বাড়ি রোড), প্যারাডাইস স্কুল এন্ড কোচিং সেন্টার ( গাওয়াইর স্কুল রোড),উদ্বোধ (গাওয়াইর কাজি বাড়ি মসজিদ সংলগ্ন),রিড (গাওয়াইর মাদ্রাসা রোড),সিউর সাকর্সেস,হোমটিউটোরিয়াল,জেনুইন কোচিং সেন্টার, দিশারি (১৭৯ প্রেমবাগান,কেসি স্কুলের বিপরীতে),ড্রীম টার্চ কোচিং সেন্টার (তেতুল তলা,হাজী জমির আলী স্কুল রোড,দক্ষিনখান), গুরুজীকোচিং সেন্টার (হজরত আলী নবীন সংঘ রোড,দক্ষিণখান) এ ছাড়াও আরো অনেক কোচিং সেন্টার। স্কুল কলেজের শিক্ষকরাই নিজেরাই এ সমস্ত কোচিং সেন্টার গুলোও আবার পরিচালনাও করেন । এ ধরনের কিছু সংখ্যক কোচিং সেন্টার গুলোর আবার শাখাও আছে বিভিন্ন স্থানে তথ্য নিয়ে জানতে পারাযায়। এ সমস্ত কোচিং সেন্টার পরিচালকরা আবার তাদের প্রতিষ্ঠানের সামনে বড় সাইন বোর্ড,ব্যানার এবং বিভিন্ন দেওয়ালে তাদের কোচিং সেন্টারের নাম দিয়ে কোচিং বানিজ্যে বিজ্ঞাপনও দিয়ে থাকে তাও চোখে পড়ে। আবার কোন কোন কোচিং সেন্টারে প্রবেশ পথে সিসি ক্যামেরাও বসিয়ে পর্যবেক্ষন সার্বক্ষিনিক মনিটরিংও করতে দেখাযায় যাতে কোচিং সেন্টারের ভিতরে কেমন লেখাপড়া হচ্ছে কি না ভিতর থেকে তা না দেখতে পাওয়া গেলেও যাতে বাহির থেকে হঠাৎ করে কেউ আসলে তা পূর্বে থেকে কোচিং এর ভিতরে দেখাযায় এবং কোন ধরনের অঘটন ঘটলেও সাথে সাথে যাতে ধামা চাপা দেওয়া যায় এ ধরনের সু ব্যবস্থা দেখাযায়। এ ধরনে কোচিং সেন্টার গুলোতে সপ্তাহে ৭ দিনই ক্লাস হতে দেখাযায়। এমকি শুক্রবারও ক্লাস হয় বলে জানতে পারাযায়। কোচিং সেন্টার গুলো ৩/৪ রুমের বাসা ভাড়া নিয়ে এ ধরনের ব্যবসায় মেতে উঠেছে। কোন কোন কোচিং সেন্টারের সাইন বোর্ডে দেখাযায় ৩য় থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত পড়ানো হয়,পাস না করলে টাকা ফেরত,১০০% সাকর্সেস। এ যেন ঔষধ বিক্রেতাদের মত বিফলে টাকা ফেরতের মত লোভনিয় অফার দিয়ে এ ভাবেই কোচিং সেন্টার গুলি শিক্ষা নিয়ে বানিজ্য করতে মেতে উঠেছে। কোচিং ব্যবসায়িরা যেন শিক্ষাকে নিয়ে ব্যবসা করতে এতোই ব্যস্ত তাদের সঙ্গে কথাবালারও সময় নাই। কোমল মতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকে নিয়ে অভিভাবকরাও বিপাকে পরে যান তার সন্তানদের কোন কোচিং সেন্টারে পড়াবেন। এক একটি কোচিং সেন্টারে ৪ থেকে ৫টি ব্যাচে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াতে দেখাযায় এবং এক একটি ব্যাচে ১৫/২০ জন ছাত্র-ছাত্রীও পড়তে দেখাযায়। এ সমস্ত কোচিং সেন্টারের ক্লাস সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে এমনকি রাত্র সাড়ে ৯টা পর্যন্ত কোন কোন কোচিং সেন্টারে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা-পড়া করতে দেখাযায়। যার কারনে রাতে অনেক অভিভাবকদের কেউ কোচিং সেন্টার থেকে তাদের সন্তানদের নিয়ে আসার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এ কারনে অভিভাববৃন্দরা তাদের সন্তানদের নিয়েও উদ্বিগ্ন। এ তোচিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এক স্কুল শিক্ষককে প্রশ্ন করলে করলেন বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা বেহাল আর শিক্ষামন্ত্রী বিভিন্ন আলোচনা সভায় কোচিং বানিজ্য বা কোন শিক্ষক বাসায় ব্যাচ পড়াতে পারবেন এ বিষয়ে দক্ষিণখান ফায়েদাবাদ ট্যালেন্ট’স স্কুলের শিক্ষক নিলকান্ত বাবুকে প্রশ্ন করলে তিনি বলে কে শোনে কার কথা এর পরে আরকোন উত্তর দেন না। অনুসন্ধান করে জানতে পারাযায় তার বাসা স্কুলের কাছেই এবং তিনিও দিনে রাতে মিলে ৪/৫ টা ব্যাচ পড়ান। কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারাযায় আমরা তাদের সন্তানদের কোচিং সেন্টারে পাঠাতে বাধ্য তা না হলে তো আমার সন্তান পরিক্ষায় পাস করবে না। এদিকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিভিন্ন আলোচনা সভায় কোচিং বানিজ্যকে অবৈধ বলে ঘোষনা করলেও কোচিং সেন্টারে শিক্ষা নিয়ে বানিজ্য কোন ক্রমেই কমেনি বরং আরো বৃদ্ধি পায়। কোচিং সেন্টারে ছাত্র-ছাত্রীরা যদি মুষ্ঠিমেয় কিছু বিষয়ে উপরে যদি পড়ে যা পরিক্ষায় পাস করার মত তাহলে ছাত্র-ছাত্রীরা কি শিখছে ? এ বিষয়ে কয়েকটা কোচিং সেন্টারে শিক্ষক ও পরিচালকদের কাছে জানতে পারাযায় রেজাল্টের মান ভালো এবং ১০০% এর মধ্যে ৯০% শিক্ষার্থীরাই এ সমস্ত কোচিং সেন্টার থেকে সাফল্যতার সাথে পাস করে। এমকি আরো জানতে পারাযায় কোন ব্যক্তি যদি ছাত্র-ছাত্রী তাদের কোচিং সেন্টার ভর্তি জন্য আনতে পারে তার জন্য কমিশনে ব্যবস্থাও আছে। এমনও কোন কোন কোচিং সেন্টারের মাধ্যমেও অনেক ছাত্রীরাও যৌন হয়রানির মুলক ঘটনার কথাও শুনতে পারাযায়। যা ধামাচাপা পড়ে যায় সমাজে লোক লজ্জার ভয়ে। শিক্ষকরা হচ্ছে মানুষ গড়ার কারিগর তারাই এ ধরনে শিক্ষাকে নিয়ে ব্যবসা শুরু করলে জাতি কি পাবে ভবিষ্যতে ? এ কোচিং বানিজ্য শুধু দক্ষিণখানে নয় সারা ঢাকা শহরে চলছে। জাতিকে সু শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হলে অবশ্যই কোচিং বানিজ্য বন্ধ করতে হবে তা না হলে জাতি অন্ধকারে মধ্যে ডুবে যাবে। আজকে শিক্ষার্থী আগামী দিনে দেশের গুরুত্বপূন ভুমিকা পালন করবে কিন্তু তারা যদি এ ধরনে কোচিং বানিজ্য শিক্ষকদের ফাঁদে পড়ে তাহলে তারা কি শিখবে বা আগামীতে দেশ পরিচালনার কি কাজ করবে? এদিকে হাইকোর্ট আদেশে কোচিং বানিজ্য বন্ধ রাখার নির্দেশ থাকলেও তা মনছে না কোচিং ব্যাবসায়িরা। এ ধরনের কোচিং বানিজ্য বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রলায় কতৃপক্ষের কোন জোড়ালো পদক্ষেপও কেনই বা নিচ্ছে না তা বর্তমান শিক্ষিত সমাজের বধ্যগম্য হচ্ছে না। ইতোমধ্যে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় কোচিং বানিজ্য খবরটি প্রকাশ হলে তাকে কোন কার্যক্রম না হওয়াতে কোচিং ব্যবসায়িরা বেজাই খুশি ।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ খুলনায় এক আলোচনা বলেন কোচিং বানিজ্য সম্পুর্ণ রুপে বন্ধ। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যকে উপেক্ষা করে এ ধরনের শিক্ষা বানিজ্যর সঙ্গে যারা জড়িত এদের বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রনালয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করা যাচ্ছে এবং শিক্ষা নিয়ে কোচিং বানিজ্য সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করে বর্তমান শিক্ষিত সমাজ।

 

Share This Post

Post Comment

%d bloggers like this: