সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিল ‍‍‍‍‘কনস্টেবল আরিফ’

 

শহিদুল ইসলাম

ময়মনসিংহ থেকে:

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত ময়মনসিংহের পুলিশ কনস্টেবল আরিফুল ইসলাম বিপ্লব দুই ভাই ও মাকে নিয়ে ছিল সংসার। তিনিই ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম। তাকে হারিয়ে অন্য দুই ছেলে শরিফুল ইসলাম এবং শহিদুল ইসলামকে নিয়ে ভেঙ্গে পড়েছেন মা মমতাজ বেগম।

নিহতের মা মমতাজ বেগম জানান, আমার মেঝো ছেলে আরিফুল ইসলাম মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ ছিল। ছোট কাল থেকে মানুষের আপদে বিপদে এগিয়ে গেছে। এই এগিয়ে যাওয়াই তার জন্য কাল হয়েছে। রোববার রাত ছিনতাইকারীদের হাত থেকে একজনকে বাঁচাতে গিয়ে ছেলেকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

অভারের সংসারে তার মুক্তিযোদ্ধা বাবা মারা গেলে এসএসসি পাশ করেই পুলিশের চাকুরীতে যায় আরিফ। তার বেতনের টাকা দিয়েইে চলতো সংসার ও অন্য দুই ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ। এখন কিভাবে আমার ছেলেরা পড়াশোনা করবে এবং সংসার চলবে এই বলে বারবার মূইছা যাচ্ছেন তিনি। ছেলে হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার চান তিনি।

নিহতের ভাই শরিফুল ইসলাম জানান, ভাইয়ের স্বপ্ন ছিল আমরা ভালো করে পড়াশোনা করে দেশ সেবায় বাবার মতো হব। আজ ভাইয়ের স্বপ্ন এবং আমাদের পড়াশোনা শেষ হয়ে গেছে। সরকার যদি আমাদের এখন না দেখে তাহলে আমরাও প্রাণে মারা যাব। ভাইকে যারা হত্যা করেছে তাদের এখনও নিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ বলেও অভিযোগ তার।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নান জানান, তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল করিম মারা যাওয়ার পরপরেই গত বছরের ১৬ অক্টোবর মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় পুলিশে চাকুরী হয় আরিফুলের। তাদের সামন্য ভিটে মাটি চারা আর কিছুই নেই। আরিফুল সংসার চালাতো। এখন যে তাদের কি হবে তা আল্লাই যানে। যারা আরিফকে হত্যা করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

 

 

 

Share This Post

Post Comment

%d bloggers like this: