বছরে কোটিপতি হচ্ছেন ৫ হাজার লোক

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেছেন, ‘পাকিস্তানের ২২ পরিবার কোটিপতি, আমরা কিন্তু আন্দোলন করেছি। এখন বাংলাদেশে প্রতিবছর ৫ হাজার লোক কোটিপতির খাতায় নাম লেখাতে পারছে। কাজেই একটা বৈষম্যের ব্যাপার আছে।’

দশম মিসবাহউদ্দিন খান স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানের মূল বক্তা হিসেবে গতকাল শনিবার এসব কথা বলেন ফরাসউদ্দিন। মুনতাসীর মামুন-ফাতেমা ট্রাস্ট গতকাল শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ফরাসউদ্দিনের বক্তৃতার বিষয়বস্তু ছিল ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক রূপান্তরে জনকল্যাণ—কোন পথে বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন।

দেশে ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের বিষয়ে ফরাসউদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর আমলে গিনি সহগ ছিল শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ, এটা এখন দশমিক ৪৫ শতাংশ। এটা দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। যদি একটি সমাজে গিনি সহগ শূন্য হয় তাহলে সে সমাজে কোনো সম্পদবৈষম্য থাকে না। আর যদি ১ হয় তাহলে একজনই সব সম্পদের মালিক। গিনি সহগ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক, যা কোনো দেশের আয় বা সম্পদের বণ্টনের অসমতা বোঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি একটি অনুপাত বা ভগ্নাংশ আকারে প্রকাশ করা হয়, যার মান ০ থেকে ১-এর মধ্যে থাকে।

অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন,বাংলাদেশের ১ কোটি ২৫ লাখ মানুষের বার্ষিক মাথাপিছু আয় ৩ লাখ টাকার বেশি। অথচ কর দেন মাত্র ১৫ লাখ লোক। কর যাঁরা দেন এটা শুধু তাঁদের সমস্যা নয়, যাঁরা কর আদায় করেন তাঁদের ব্যবস্থাপনায় সমস্যা আছে। অন্তত এই সোয়া কোটি মানুষকে করের আওতায় আনতে হবে। এই কাজটি ছলেবলেকৌশলে না করে বুঝিয়ে করতে হবে।

জ্বালানি তেল বিক্রিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসির ভূমিকার সমালোচনা করেন মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, কম দামে তেল আমদানি করে তা বেশি দামে বিপিসিকে বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এতে বিপিসির যদি বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা লাভ হয় তাহলে এর অর্ধেক কেন সরকারি কোষাগারে জমা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। প্রয়োজনে বিকল্প প্রতিষ্ঠানকে জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিন বলেন, দেশের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ কৌশলে পরিবর্তন আনতে হবে। উন্নয়নের জন্য শিল্পায়নভিত্তিক মডেল নিতে হবে। ১৯৭২ সালে জিডিপিতে (মোট দেশজ উৎপাদন) শিল্প খাতের অবদান ছিল ৭ শতাংশ, এখন সেটা ৩০ শতাংশ হয়েছে। বিপরীতে সেবা খাত থেকে আসছে ৫৪ শতাংশ। সেবা খাতে লাভ বেশি, কর্মসংস্থান কম। এ জন্য শিল্প খাতকে জোর দিতে হবে কারণ এতে বেশি কর্মসংস্থান হবে, তাতে সম্পদবৈষম্য ও দারিদ্র্য কমবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উন্নয়নে গুরুত্ব দেন তিনি।

তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করার গুরুত্ব তুলে ধরে মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৫ কোটি। তাদের দক্ষতা উন্নয়নে শিক্ষাবৃত্তিসহ নানা উদ্যোগ নিতে হবে। এর ফলে তাঁরা মানব-মূলধনে পরিণত হবে।

Share This Post

Post Comment

%d bloggers like this: